
সারা দেশে সরকার ঘোষিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মিষ্টির দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক দুধ বিক্রেতা ও ডেইরি খামারিরা।
মিষ্টির দোকানগুলো দুধের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় ব্যবসার সময় কমে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার দুধ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। এতে করে সংশ্লিষ্ট খাতের মানুষজন পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় সাধারণ হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলো দীর্ঘসময় খোলা রাখার অনুমতি পেলেও মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সাধারণত বিকেলের পর খামারিরা দুধ সংগ্রহ করে মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খামারিরা সময়মতো দুধ পৌঁছে দিতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দোকানদাররা আগেভাগেই দুধ কেনা বন্ধ করে দিচ্ছেন, ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পচনশীল এ পণ্যটি।
ভুক্তভোগী এক খামারি বলেন, “গরুর দুধ বিকেলে সংগ্রহ করা হয়। বাজারে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। মিষ্টির দোকান ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেলে আমরা এই দুধ কোথায় বিক্রি করব? হোটেলগুলো খোলা থাকলে মিষ্টির দোকান কেন বন্ধ থাকবে?”
আলমডাঙ্গার মিঠাই বাড়ি, মিঠাই মেলা, কুটুম বাড়ি, হারান মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, চন্দনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ বেশ কয়েকটি মিষ্টির দোকানের ব্যবসায়ীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় গরমের মধ্যে দুধ কিনে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
খামারি ও বিক্রেতাদের দাবি, মিষ্টির দোকানগুলোকে সাধারণ হোটেলের মতো অন্তত রাত সাড়ে ৮টা বা তার বেশি সময় পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। এতে দুধের অপচয় কমবে এবং শতাধিক খামারি ও প্রান্তিক উৎপাদক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

