
আলমডাঙ্গায় আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে পৈতৃক ভিটায় জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আজিল বক্স (৬৬)। তিনি তাঁর সহোদর ফজলুল হকের (৬৪), বৈধ মালিকানাধীন জমি জবরদখল করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আদালতের নোটিশ জারির পরেও থামেনি নির্মাণ। আইনের প্রতি এই সুস্পষ্ট বৃদ্ধাঙ্গুলি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
ভূমি রেকর্ড সূত্রে ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে , আলমডাঙ্গা মৌজা-৪ নং নগরবোয়ালিয়ার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মরহুম ওফাতুল্লা মণ্ডলের সাত সন্তানের মধ্যে জমিজমার বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। মরহুমের পুত্র ফজলুল হক (৬৪), পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ১৩৬ খতিয়ানের ৩৭১০ দাগে ০.০৪৬৫ (একর) জমির আইনি অধিকারী। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৮ সালের (১ মার্চ) মরহুম সাজেদুল আলম মল্লিকের ওয়ারিশগণের কাছ থেকে একই মৌজার- ৩৩৭ খতিয়ানের ৩৭০৯ দাগে ০.০৬ (একর) জমি ক্রয় করেন। দুটি জমি পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় ফজলুল হক দীর্ঘকাল ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে উভয় অংশে দখলে ছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর সহোদর আজিল বক্স সেই জমিতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন এবং উচ্ছেদ করে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। ফজলুলের বৈধ দখল ও মালিকানাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলতে থাকে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ।
আদালতের নির্দেশও মানছে না অভিযুক্ত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মো. ফজলুল হক আদালতের দ্বারস্থ হন। গত (২৩-এপ্রিল ২০২৬), তারিখে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির-১৪৫(১), ধারায় নোটিশ জারি করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেন। সেই নোটিশ যথাযথভাবে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়। তবু থামেননি আজিল বক্স। আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি ও তাঁর পুত্রেরা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
ক্ষোভ ও হতাশায় ভুক্তভোগী ফজলুল হক বলেন , আমার ওয়ারিশ সূত্রে পাওনা ও ক্রয়কৃত জমিতে আমার ভাই আজিল বক্স ও তার ছেলেরা জোরপূর্বক বাড়ি তুলছে। আদালতের নোটিশ পুলিশ ক্যাম্পে জমা দেওয়ার পরেও তারা কাজ বন্ধ করেনি। এখন প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করে আইনি মীমাংসার ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা আলমডাঙ্গা থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আদালতের নোটিশ হাতে পেয়েও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি সে প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
সচেতনমহল বলছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব থাকলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

