
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কাঠবাদাম ভেবে জিয়ালা গাছের কাঁচা ফল খেয়ে বিভিন্ন বয়সী অন্তত ১৪ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত পেটব্যথা ও বমি হওয়ায় তাদের মধ্যে ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসায় তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে রয়েছে মোস্তাকিন (১২), কাফি (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা (৯), রক্তিমা (১১), রিয়াদ (১১), ফেরদৌস (১০), ফুয়াদ (১২) ও মোস্তাকিম (৯)। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সহড়াবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে প্রতিদিনের মতো গ্রামের শিশুরা খেলতে বের হয়। একপর্যায়ে সড়কের পাশে থাকা একটি জিয়ালা গাছের কাঁচা ফল কাঠবাদাম ভেবে কয়েকটি করে খায়। মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় শিশুরা তৃপ্তি করে ফলটি খায়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর একে একে তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়।
বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তত ১৪ শিশু। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অসুস্থ শিশু মোস্তাকিনের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, তার ছেলে বাড়ি ফেরার পরই বমি শুরু করে এবং তীব্র পেটব্যথায় ভুগতে থাকে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি ফুয়াদ জানায়, খেলার সময় এক বন্ধু ফলটি খেতে ভালো বলে জানালে তারা গাছ থেকে ফল পেড়ে খেতে শুরু করে।
পরে অন্য শিশুরাও তাদের দেখাদেখি ফল খায়। খাওয়ার সময় কোনো সমস্যা না হলেও বাড়ি ফেরার পর বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়।
অভিভাবকরা জানান, জিয়ালা গাছের ফল সাধারণত কেউ খায় না। বড়রা জানলেও শিশুরা জানত না যে এই ফল খাওয়া ক্ষতিকর। এর আগে গ্রামের কেউ এ ফল খেয়েছে বলেও জানা যায়নি।
চিকিৎসক জানান, স্থানীয়ভাবে জিয়ালা কচা নামে পরিচিত বার্বাডোজ নাট গাছের ফল ও পাতা খেলে পেটব্যথা, বমি এবং তীব্র ডায়রিয়া হতে পারে। অসুস্থ শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জিয়ালা গাছ সাধারণত বসতবাড়ি ও ক্ষেতের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গরু-ছাগলও এ গাছের পাতা বা ফল খায় না, তাই এটি বেড়া হিসেবে বেশ কার্যকর।

