
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মোঃ জনি (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
পরে তাকে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার (৬ জুলায়) রাত ৯টার দিকে মেয়ের বাবা হৃদয় বাদি হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। আটকৃত জনি বিষ্ণুপুর (কাসারীপাড়া) গ্রামের সৌরভ হোসেনের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামিকে আদালতে পাঠিয়েছে মডেল থানা পুলিশ।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর (মসজিদপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা পাখিভ্যানচালক মো.হৃদয় আলীর মেয়ে লিলাফী খাতুন (০৯) একই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে ইব্রাহিমপুর বড় মসজিদের পাশের একটি দোকানে চকলেট কিনতে দাঁড়ায় তখন দোকানে দোকানদার ছিলনা। এ সময় মো, জনি সেখানে এসে নিজেকে শিশুটির বাবার বন্ধু পরিচয় দিয়ে অন্য দোকান থেকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে।
শিশুটি তার কথায় বিশ্বাস করে জনির বাইসাইকেলে ওঠে।তখন সে,স্কুলের দিকে না গিয়ে শিশুটিকে ইব্রাহিমপুর কবরস্থানের পাশ দিয়ে অন্য পথে নিয়ে যেতে শুরু করলে শিশুটি চিৎকার করে। তার চিৎকার শুরু করে তার চিৎতকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে জনিকে আটক করে।
পরে তাকে বিষ্ণুপুর বাজারের একটি ক্লাবঘরে আটকে রাখা হয় এবং শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিশুটির বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি দামুড়হুদা মডেল থানায় জানালে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবক ও শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্তকে প্রথমে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি তদন্ত আজাদ রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে।আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

