
মেহেরপুরে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় পৃথক স্থানে আরও দুইজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মাঠে থাকা চারটি গরুরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৫টার দিকে জেলার সদর ও গাংনী উপজেলার পৃথক এলাকায় বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রশিদ মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মৃত আবদার আলীর ছেলে। আহতরা হলেন গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ডোবাপাড়া এলাকার মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৭০) এবং ভরাট দুর্লভপুর গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে খাদিজা খাতুন (১৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ভেদাগাড়ির মাঠে মরিচ গাছ লাগানোর কাজ করছিলেন কৃষক আব্দুর রশিদ। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
অন্যদিকে, গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ডোবাপাড়ার চামড়ুখালি মাঠে গরু চরাচ্ছিলেন রবিউল ইসলাম। বজ্রপাতের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যায় তার চারটি গরু। স্থানীয়রা জানান, গরুগুলো ছিল পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একসঙ্গে চারটি গরুর মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ ছাড়া ভরাট দুর্লভপুর গ্রামে বাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আহত হয় কিশোরী খাদিজা খাতুন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তাসমারী খাতুন জানান, বজ্রপাতে আহত দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

