
মেহেরপুর জেলার তিন দিক জুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। ৯৭ কিলোমিটার সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান। দিনের চেয়ে রাতে সীমান্তে ভারতীয় সার্চ লাইটের আলোর দিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে সীমান্ত পাহারায় বিজিবি সদস্যরা। বিজিবির সাথে পাহারায় শতস্ফুর্তভাবে যোগ দিয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।
ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন। সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা, স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজরদারিও।
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে মেহেরপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তবর্তী কয়েকটি পয়েন্টে ভারতীয় ভূখন্ডে কিছু মানুষের সমাগমের তথ্য পাওয়া গেছে। বিজিবির দাবি, যেসব এলাকায় পুশ-ইনের আশঙ্কা থাকে, সেখানে ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার সংলগ্ন আলোগুলো অনেক সময় নিভিয়ে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার মোট ১৯টি বিওপি ও একটি আইসিপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৮১টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবির টহলের সাথে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও। পাহারায় নিয়োজিত কাথুলী সীমান্তবাসী আমিরুল ইসলাম জানান, দেশ আমার,দেশকে রক্ষা করতে এবং সীমান্তে চোরাচালান,মাদক প্রচার ও অবৈধ পুশইন প্রতিরোধ করতে বিজিবিকে সহায়তা করা হচ্ছে। বিজিবির সাথে আমরাও বিভিন্ন দলের সাথে সারারাত পাহারা দিচ্ছি। পাহারায় অংশ নিতে পেরে আমাদেরও ভাল লাগছে।
সীমান্তবাসী খাইরুল ইসলাম বলেন,সীমান্তের যে কোনো সময়ে আমরা বিজিবির সাথে আছি। কোনো ভাবেই যেনো ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ পুশইন না হয়। বিজিবির আহবানে আমরা পাহারায় যোগ দিয়েছি।
কাথুলী বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মো: অছিকুর রহমান বলেন, ১০ দিন যাবত ভারতীয় বিএসএফ নিয়ম না মেনে বেশ কিছু মানুষ পুশইন করার চেষ্টা করছে। দু দেশের নিয়ম অনুয়ায়ী পুশইন করলে আমরা কাগজপত্র যাচাই করে তাদেরকে নিতে আপত্তি নেই। তবে অবৈধভাবে ভারতের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন জড়ো করে আমাদের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা তা প্রতিহত করার জন্য সজাগ রয়েছি। এতে আমরা স্থানীয়দের সহায়তা নিয়েছি। সীমান্তবাসীরাও আমাদের সাথে পাহারায় যোগ দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, মোট ৯৭ কিলোমিটার মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা। এর মধ্যে ৬৩ কিলোমিটার মেহেরপুর অঞ্চলের দায়িত্ব পড়েছে আমাদের ওপর বাকীটা নিয়ন্ত্রণ করেন কুষ্টিায়া ব্যাটালিয়ন। এসব সীমান্ত দিয়ে রাতের আধারে অবৈধভাবে বেশ কয়েকবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই পুশইন বা পুশব্যাক করাতে চাই। বর্তমানে সীমান্তে নিরাপত্তায় ও টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষকেও বিভিন্ন ভাবে শতর্ক করতে রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন জনসমান এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয়রাও।
৪৭ বিজিবি কৃষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে; কর্নেল রাশেদ কামাল রনি দৈনিক আগামীর সময়কে বলেন, মেহেরপুরের ৯৭ কিলোমিটার সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাভুক্ত। সীমান্ত এলাকায় এখন পাটক্ষেত থাকায় দুর থেকে দেখতে অনেকটা সমস্যা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে টহর জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তের কাছে যে সকল আবাদি জমি রয়েছে সেকল কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার আহবান করা হয়েছে। এবং কোন ধরনের চোরাচালান,পুশইন যাতে না হয় একারনে স্থানীয়রা দলে দলে বিজিবির সাথে পাহারায় যোগ দিয়েছেন। আশাকরবো সীমান্ত দিয়ে আর কোনো অবৈধ পুশইন না হয় এবং মাদক না আসে।

