
১৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা আত্মসাতের আসামির সামসুজ্জামান টুটুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মেহেরপুর সদর আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর সদর থানায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ওসমান গণি বাদি হয়ে সংস্থার সাবেক কর্মী সামসুজ্জামান টুটুলের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-২১।
মামলার বাদি ওসমান গণি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামি পক্ষে অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ও বাদি পক্ষে অ্যাড. এহান উদ্দিন মনা আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, আসামী সামসুজ্জামান টুটুল প্রশিকা মেহেরপুর সদর অফিসের একজন সাবেক কর্মী। আসামী চাকুরীতে যোগদান করার পরে মাঠ পর্যায়ে ঋণ বিতরণকালে বিভিন্নভাবে আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে।
আমি সহ আমার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাকে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করতে থাকি। তাকে আমরা কোন ভাবে নিবারণ করতে না পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আসামীকে নিয়ে আমাদের অফিসে ২৩ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ে তার প্রদত্ত লোন এবং কাগজে কলমে লোনের স্থিতির হিসাব করতে বসি।
হিসাব কালে দেখা যায় মাঠ পর্যায়ে তার প্রদত্ত লোন এবং স্থিতির মধ্যে ১৪ লাখ ২৪ হাজার ২৩৫ টাকা ঘাটতি আছে। এই পরিমান টাকা সে লোন প্রদানের নামে বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা পূর্বক আত্মসাৎ করেছে। আসামীকে এ বিষয়ে কাগজে কলমে বুঝিয়ে দিলে তিনি সেটি মেনে নেন এবং আত্মসাৎকৃত টাকা অফিসে ফেরত দেবার জন্য এক মাসের সময় চান।
আমি এবং আমার অফিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আলোচনা করে মানবিক কারণে তাকে এক মাসের সময়ে প্রদান করি এবং তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়াস্থ আমাম হোসেন মিলুর তিন তলা ভবণের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রশিকা অফিসে আসামী এসে হাজির হয়।
তাকে অফিসের টাকা পরিশোধ করিতে বলিলে তিনি টাকা যোগাড় করতে পারেনি বলে আরো কিছু দিনের সময় চায়। আমরা তাকে সময় দিতে অপরাগতা প্রকাশ করিলে সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে চিৎকার করে বলে যে তোরা আমার কাছে কোন টাকাই পাবিনা, আমি কোন টাকাই দিতে পারবো না বলে সে টাকার কথা অস্বীকার করে দম্ভের সাথে অফিস থেকে চলে যায়।
একই ঘটনায় প্রশিকার আরেক কর্মী রীতা সাহা সামসুজ্জামান টুটুলের স্ত্রী পপি খাতুন, আবু আক্তার করণ ও রাশেদ খান মিলনের বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একডি জিডি করেন। যার নম্বর-৮০৬। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৬ এপ্রিলের ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্লিল ভাষায় গালাগাল করেন এবং নানরকম হুমকি দেন।

