
আলমডাঙ্গায় পহেলা বৈশাখের সরকারি উৎসব চলাকালে পান্তা বিতরণকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক সাধারণ ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নাক ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত হন। তিনি পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ার মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্বরে পান্তা-ভাত ও মাছ বিতরণ চলছিল। এ সময় খাবার নিতে গেলে সনেট আলীকে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত সনেট আলীর পরিবার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, কোনো উসকানি ছাড়াই একজন সরকারি কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তারা ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, সাংবাদিকদের তথ্য নিতে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানে এমন আচরণ চরম দায়িত্বহীনতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ তার এ ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে শোকজ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

