
আলমডাঙ্গায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় ৪ দিনের ব্যবধানে দুই প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি পৌর এলাকার হাইরোডে অবস্থিত ফাতেমা ক্লিনিকে ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর গত বুধবার দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. আওলিয়ার রহমান প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানকালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাগজপত্র ছাড়াই এক ব্যক্তিকে রক্ত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার আইনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাক আহম্মেদের স্ত্রী চামেলী খাতুন গত ৭ এপ্রিল রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে ফাতেমা ক্লিনিকে ভর্তি হন। ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়। এরপর তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের রিপন আলীর স্ত্রী লাবনী খাতুন গত সোমবার রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে একই ক্লিনিকে ভর্তি হন। ওই রাতেই তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের ভুলে তার নাড়ি কেটে ফেলা হয়। এতে খিচুনি ও রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অভিযানে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. আওলিয়ার রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল শফিউল্লাহ এবং র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, দুই প্রসূতি নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

