
উন্নয়ন বঞ্চনার ১৩টি অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, মো. তৌহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলী বিশ্বাস, আহাদ আলী মোল্লা, মো. সাহাবুদ্দীন, মো. লাবলুর রহমান, মোহা. শাফায়েতুল ইসলাম, আছির উদ্দীন, অ্যাডভোকেট কাইজার জোয়ার্দ্দার, শেখ সেলিমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জেলার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় এবং নাগরিকরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলো হলো
১। চুয়াডাঙ্গা শহরের ওভারপাস নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে নাগরিকদের দুর্ভোগ দূর করতে হবে (যা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল)।
২। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা চালু করে দালালনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াগনস্টিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩। বিদ্যুৎ বিভাগের গ্রাহক হয়রানি, দুর্নীতি, মিটার ভাড়ার নামে অবৈধ আদায় এবং লাইনম্যানদের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
৪। মাথাভাঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ রোধ, অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত, সীমানা নির্ধারণ এবং মাথাভাঙ্গা-ভৈরব আপার ব্যারেজ নির্মাণ করতে হবে। পৌরসভা ও কেরু অ্যান্ড কোম্পানির বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।
৫। শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
৬। দর্শনা স্থলবন্দর ও রেলবন্দর দ্রুত চালুর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭। পানচাষিদের জন্য পান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মাটি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করতে হবে।
৮। জনগণের চলাচলের জন্য সিএস, এসএ ও আরএস ম্যাপে থাকা রাস্তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলমুক্ত করতে হবে।
৯। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর ঐতিহাসিক লাল ভবনকে ‘স্বাধীনতা ভবন’ ঘোষণা করে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করতে হবে।
১০। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ দখল, জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
১১। আবুল হোসেন স্মৃতি সাধারণ গণগ্রন্থাগার ও শ্রীমন্ত টাউন হল পৌরসভার অবৈধ নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে নির্বাচিত কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
১২। চুয়াডাঙ্গার দীর্ঘদিনের দাবি বাইপাস সড়ক নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
১৩। জীবননগরের দত্তনগর কৃষি ফার্মে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও মানবিক চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ সেলিম জানান, উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২৬ এপ্রিল রোববার সকাল ৯টায় শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের নাগরিকদের ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

